জে’নে নিন উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ৬টি ঘরোয়া উপায়!

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য হন্যে হয়ে পার্লার আর দামী দামী বিউটি প্রোডাক্টের পেছনে ঘুরছেন কি? কখনো এই ব্র্যান্ড কখনো ওই ব্র্যান্ড করে করে নিজে’র ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর বদলে কমিয়ে ফেলছেননা তো? বিউটি প্রোডাক্ট গু’লির বেশির ভাগ গু’লিতেই অল্প বিস্তর কেমিকাল থাকে। তাই না জে’নে শুনে সেগু’লি ব্যবহার করলে কিন্তু অনেক সময়ই এর ফল মা’রাত্মক হতে পারে।

তাই এত কিছু না করে সহজ ৬ টি ঘরোয়া উপায় ট্রাই করুন। এই উপায় গু’লি সহজ এবং এর উপাদান গু’লিও সবসময় আপনার হাতের কাছেই থাকে এবং এগু’লি আপনার ত্বক উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে ১০০% বিশ্বস্ত।

১. লেবু: লেবু আমাদের ত্বক প’রিষ্কার ক’রতে সব থেকে বিশ্বস্ত উপাদান। এতে বর্তমান সিট্রাস অ্যাসিড আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে প’রিষ্কার করে এবং এতে বর্তমান ভিটামিন c ত্বকের সমস্ত রকম ডার্ক স্পট, এমনকি সানবার্নকেও স’ম্পূর্ণ রূপে দূ’র করে। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। সুতরাং আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও প’রিষ্কার রাখার জন্য লেবু একটি বিশেষ কা’র্যকরী উপাদান।

কিভাবে ব্যবহার করবেন? এর প্রয়োগ অত্যন্ত সহজ। একটি লেবুর রস আপনার মুখে, গলায় ও ঘাড়ে ভালো করে মেখে নিন। আপনার ত্বক যদি রুক্ষ হয় তাহলে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। ১০-১৫ মিনিট পর হালকা গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এবার শশার স্লাইস মুখে, গলায় ও ঘাড়ে ঘষে নিন। ১০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন এই ভাবে লেবু ব্যবহার করুন।

২. গুঁড়: এবারের শীতে শুধু গুঁড়ের পায়েস ও পিঠে না খেয়ে গুঁড় মুখেও মাখু’ন| গুঁড়ে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড বর্তমান যা সমস্ত রকম স্কিনহোয়াইটেনিং এবং অন্যান্য স্কিন প্রোডাক্ট গু’লিতে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং গুঁড় প্রাকৃতিক ভাবেই আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন? ২ চামচ গুঁড়(লিকুইড), ২ চামচ মধু ও অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখেও গলায় মাখু’ন। ১০ মিনিট পর হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ও গলা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।

৩. রাইস ফ্লাওয়ার: পাউডারড রাইস বা চালের গুঁড়োতে স্কিন হোয়াইটেনিং এজেন্ট বর্তমান। এটিও একধ’রনের প্রাকৃতিক ব্লিচ ত্বকের জন্য। এটি আমাদের ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে। এই রাইস ফ্লাওয়ার কিন্তু জাপানি মহিলারা ব্যবহার করেন তাকের ত্বকের উজ্জ্বলতা ধ’রে রাখার জন্য।

এছাড়া এতে অ্যান্টিএজিং উপাদানও বর্তমান। সুতরাং আপনার ফর্সা হওয়ার ক্ষেত্রে রাইস ফ্লাওয়ার কিন্তু খুব গু’রুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। রাইস ফ্লাওয়ার বাজারেই কিনতে পাওয়া যায় এছাড়া অ্যামাজনেও আপনি রাইস ফ্লাওয়ার পেয়ে যাবেন। এর জন্য নিচের লিঙ্কটিতে ক্লি’ক করুন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন? প্রথমে রাইস স্ক্রাব দিয়ে মুখ প’রিষ্কার করে নিতে হবে। এর জন্য ১ চামচ রাইস ফ্লাওয়ার ও ২ চামচ আলোভেরা জে’ল মিশিয়ে মুখে সার্কুলার মোশনে হালকা করে ঘষুন ২-৩ মিনিট ধ’রে। এর পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

হোয়াইটেনিং প্যাক: এর জন্য ২ চামচ চালের ময়দা, ২ চামচ মধু ও ২ চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে মুখে ও গলায় মাখু’ন। ১০-১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন এই পদ্ধতিতে খুব তাড়াতাড়ি আপনার ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

৪. নারকেল তেল: নারকেল তেল চুলের সাথে সাথে আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে বর্তমান ভিটামিন ই আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়মিত এর ব্যবহারে আমাদের ত্বক মসৃন ও কোমল হয়ে ওঠে। এক্সট্রা ভার্জিন নারকেল তেল ব্যবহার করলে কিন্তু বেশি ভালো ফল পাবেন।কিনতে ইচ্ছুক হলে নিচের লিঙ্কে ক্লি’ক করুন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন? ২ চামচ নারকেল তেল ও ২ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে ঘন একটি ফেসপ্যাক তৈরী করুন। এবার এই মি’শ্রণ আপনার মুখে ৫-১০ মিনিট ধ’রে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এরপর ফ্রেশওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডা সমস্ত ডেড সেল ও স্কিনপোর গু’লি প’রিষ্কার করবে এবং নারকেল তেল ত্বকের ভেতরে গিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর কাজ করবে। মাসে ২ দিন এই প্যাক ব্যবহার করুন| এছাড়া নারকেল তেল আপনি প্রতিদিন মুখে মাখতে পারেন।

৫. কফি: ফর্সা হওয়ার জন্য আরেকটি খুব ভালো উপাদান হলো কফি। কফিতে বর্তমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই কফি কিন্তু আপনার উজ্জ্বল ত্বকের সঠিক চাবিকাঠি হতে পারে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন? ২ চামচ কফি, ১ চামচ দই ও ২ চামচ অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে মুখে মাখু’ন। ৫-১০ মিনিট পর হালকা গরম জল দিয়ে ধীরে ধীরে মুখে ম্যাসাজ করুন। ৫ মিনিট ম্যাসাজ করার পর ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং আপনার রেগুলার ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার মেখে ফেলুন। মাসে ৩ দিন এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।

৬. সঠিক ডায়েট: আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলতে সব থেকে গু’রুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ডায়েট। আপনার শ’রীরের পুষ্টি ঠিক মত না হলে কিন্তু আপনার ত্বকের উজ্জলতা ক্ষনস্থা’য়ী হবে। তাই প্রচুর পরিমানে সব্জি ও ফলমূল খাওয়া উচিত। এছাড়া দিনে অন্ত’ত ৭-৮ গ্লাস জল পান করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সুতরাং ফর্সা ত্বকের জন্য এখন আর পার্লারে গিয়ে সময় ন’ষ্ট নয় এবং গাদা খানেক বিউটি প্রোডাক্ট কিনে অর্থ ন’ষ্টও নয়। এই সব সহজ ঘরোয়া উপাদান গু’লি ব্যবহার করে নিজেই নিজে’র স্কিন এক্সপার্ট হয়ে যান। তবে ২ টি বা ৩ টি উপায় কিছু দিন ব্যবহার করে পরে অন্য গু’লি ব্যবহার ক’রতে পারেন। যেটি সবথেকে বেশি কাজে দেবে সেটিই কন্টিনিউ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *