ব্যাটিং অর্ডারে সিনিয়রদের অবনমনের পরামর্শ পাপনের

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৪১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও টাইগাররা বরণ করেছে ৬ রানের পরাজয়। দলের স্বার্থে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে প্রয়োজনে সিনিয়রদের অবনমনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) অনলাইন সভায় প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের সাথে কথা বলেন পাপন। এ সময় তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী যেন ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করা হয়।

‘আমাকে এই পজিশনে খেলতেই হবে- এমন চিন্তাধারা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে পজিশন বদলানো লাগতেই পারে।’– বলেন তিনি।

পূর্বপরিকল্পিত ব্যাটিং অর্ডার নিয়েই বাংলাদেশ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছে। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন আনার সুযোগ ছিল। তা না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পাপন।

‘যেহেতু ৩ ওভারে দুটো উইকেট পড়ে গেছে, পাওয়ারপ্লেতে আরও আড়াই-তিন ওভার বাকি আছে, অবশ্যই ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করা উচিৎ ছিল। কাউকে তিনে খেলাতেই হবে, কাউকে চারে খেলাতেই হবে এমন তো না। এটা তো ম্যাচের কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে।’

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিং সময়োপযোগী ছিল না। চাপ সামলাতে গিয়ে মুশফিকও ব্যাট করেছেন প্রত্যাশার চেয়ে কম স্ট্রাইক রেটে। দুই ওপেনারের পর এই তিন সিনিয়র ব্যাটারই নেমেছিলেন ক্রিজে। তারা দলকে চাপমুক্ত করতে না পারায় শেষদিকে তরুণদের চেষ্টাও সফল হয়নি।

পাপনের নির্দেশনা- দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হলে সিনিয়রদের আগে যেন জুনিয়র ক্রিকেটারদের ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান। ওরা ম্যাচ শেষ করে আসবে। যদি নিচে থেকে কাউকে ওপরে উঠাতে হয়, উঠাতে হবে। আর ওরা ওপরে খেললে যায় তাহলে দায়ভার নিতে হবে। কিন্তু ঝুঁকি না নিয়ে বল নষ্ট করা, এমন পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া যেখান থেকে ভালো করা যাবে না সেটা করা যাবে না।’

‘কে কত রান করল এটার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কত বলে কত রান হল। সবচেয়ে বড় কথা আমরা তাড়া করছিলাম। প্রয়োজনীয় রেট বেড়ে ১২-১৩ হয়ে গেলে শেষদিকে ২-৩ ওভারে কী করবে? এমন অবস্থা যে টানা চারটা ছয় মারতে হবে। এটা তো সম্ভব না!’

বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘প্রথম ৬ ওভারে যেই থাকবে মারতেই হবে। পরেরদিকে যতগুলো ক্যাচ বাউন্ডারি লাইনে দিয়েছে, এগুলো মারতে হবে প্রথম ছয় ওভারেই, ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন থাকাকালীন। তখন তো কেউ মারছে না। ওদের পরিকল্পনাই আমি বুঝিনি। যাদের মারার সাহস আছে, তারা মারবে, আউট হলে কিছু যায় আসে না। প্রথম দিকে তাদেরই খেলা উচিৎ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.