এইচএসসিতে অটোপাস, কারা পাচ্ছেন জিপিএ-৫

মহামারি করোনার কারণে গতবছরের এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি।যে কারণে নেওয়া হয়েছে অটোপাসের সিদ্ধান্ত। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করে এবছর এইচএসসির ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।চলতি মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

অটোপাসের বিষয়টি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য যেমন খুশির কারণ আবার অনেকের কাছে মন খারাপেরও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।যারা এইচএসসিতে ভালো ফলাফলের আশা নিয়ে দিনরাত পড়ালেখা করেছেন তাদের জন্য বেদনার কারণ হতে পারে বটে!মিস হয়ে যেতে পারে জিপিএ-৫।আবার অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা বিগত পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও কলেজে গিয়ে পড়ালেখায় পিছটান পড়ে গেছে তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।

কারা ভালো করবেন অটোপাসে?
সম্প্রতি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম বলেছেন, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কোডিং করে এবারের অটোপাসের ফলাফল নির্ধারণ হবে। ফলাফল তৈরির জন্য দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা মিলে সভা করেছেন। জাতীয় পরামর্শক কমিটির দিকনির্দেশনায় ফলাফল তৈরির নীতিমালা করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক নম্বর নির্ধারণ করা হবে। তার মধ্যে জেএসসিতে ২৫ শতাংশ এবং এসএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের ওপর ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে। যারা জেএসসিতে অংশগ্রহণ করেনি, তাদের ক্ষেত্রে শতভাগ নম্বর এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ওপর নির্ধারণ করা হবে।

যেমন জেএসসি ও এসএসসি দুটোতেই জিপিএ-৫ পেয়েছে তাদেরকে এইচএসসিতেও একই রেজাল্ট দেয়া হবে।কেউ আগের দুই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও অতিরিক্ত বিষয়ে ও ব্যাবহারিক পরীক্ষার নম্বর যুক্ত থাকলে তাদের ক্ষেত্রে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পরিবর্তন হতে পারে।অর্থাৎ গোল্ডেন জিপিএ-৫ না থাকলে এইচএসসিতে নাও মিলতে পারে এ-প্লাস বিষয়ভিত্তিক ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই সূত্র অনুসরণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দফায় দফায় তা বাড়িয়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা এবং সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে দুই মন্ত্রণালয়।

এরপর ঘোষণা দেওয়া হয়, জেএসসি ও জেডিসি এবং এসএসসি এ দুটি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফলাফল তৈরি করা হবে। থাকবে নম্বরপত্র, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কোনও ক্ষতি না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *